যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের পর এবার নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণও নিতে যাচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। প্রায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে দলটির প্রার্থীরা। এ ফলাফলকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে ভোটারদের কঠোর রায় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
প্রতিনিধি পরিষদের মোট আসন ৪৩৫টি। এই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেতে কোনো দলকে অন্তত ২১৮টি আসনে জয়ী হতে হয়। নির্বাচনের সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ২২০টি আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরা। বিশ্লেষকদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত দলটির আসনসংখ্যা ২৫৫ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন এলাকাতেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। পূর্ব উপকূল থেকে টেক্সাসের রিও গ্রান্ডে উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত বহু আসনে রিপাবলিকানদের পরাজিত করে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছেন তাঁরা।
পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান দলের চারজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি পরাজিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, রায়ান ম্যাকেঞ্জি, রব ব্রেসনাহান ও স্কট পেরি। ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা তাঁদের পরাজিত করে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলো পুনরুদ্ধার করেছেন।
ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যেও বড় সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। ভার্জিনিয়া বিচ এলাকায় সাবেক প্রতিনিধি ইলেইন লুরিয়া রিপাবলিকান প্রার্থী জেন কিগানসকে হারিয়ে নিজের পুরোনো আসন ফিরে পেয়েছেন। রিচমন্ডের বাইরে শ্যানন টেলর দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান প্রতিনিধি রব উইটম্যানকে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেছেন।
নিউ জার্সিতে রিপাবলিকান প্রতিনিধি টম কিন জুনিয়র ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রেবেকা বেনেটের কাছে হেরে গেছেন। ইন্ডিয়ানায় পরাজিত হয়েছেন রিপাবলিকান প্রতিনিধি ভিক্টোরিয়া স্পার্টজ। এ ছাড়া কলোরাডো ও নর্থ ক্যারোলাইনাতেও গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটদের এই জয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিভিন্ন বিতর্কিত নীতির বিরুদ্ধে জনমতের প্রতিফলন। অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের মতো বিষয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে। এসব নীতির কারণে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়াও ভোটারদের অসন্তোষের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আগামী ৩ জানুয়ারি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবেন ডেমোক্র্যাটরা। এর ফলে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি।
এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং মার্কিন রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
