নেপাল-চীনে ভয়াবহ বন্যায় নিহত প্রায় ৭০০, নিখোঁজ ৩ হাজার
হিমালয় অববাহিকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে নেপাল ও চীনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭০০ জনে দাঁড়িয়েছে। দুই দেশ মিলিয়ে এখনও প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের বড় একটি অংশ বিভিন্ন দেশের বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থী।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, তিব্বত সীমান্ত এলাকায় বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক, যাদের মধ্যে ১৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের অধিবাসী।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্গম এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ৮৮ জন ভারতীয়কে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও ২৮৭ জন ভারতীয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিহতদের দ্রুত শনাক্ত করতে এবং ডিএনএ পরীক্ষায় সহায়তার জন্য একটি বিশেষ ফরেনসিক দল কাঠমান্ডুতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিপর্যয় মোকাবিলায় নেপালকে জরুরি মানবিক সহায়তা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ৩৬ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে দুর্গম ও বিপজ্জনক এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে নেপালের পুলিশ জানিয়েছে, দেশটির রাসুয়া জেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৬৭৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) চীন সীমান্তের কাছে একটি বিশাল হিমবাহ ধসে কাদা ও পাথরের স্তূপ নেমে আসার পর ভোতেকোশি নদীর দুই তীরে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে নেপালের রাসুয়াসহ মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে সড়ক, সেতু, সরকারি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ধ্বংসস্তূপ, পাহাড়ি কাদা ও পানির প্রবল স্রোতের কারণে নেপালে উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন করে পাহাড়ধস ও নদীর পানি বৃদ্ধির আশঙ্কায় ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক ও কর্মী রয়েছেন। বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
