শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় সহিংসতার শঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর গত ১৮ আগস্ট দেশের বিভিন্ন ইউনিটকে এ বিষয়ে চিঠি দেয়। পরে ২২ আগস্ট ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার বিভিন্ন বিভাগেও একই ধরনের নির্দেশনা পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের সন্দেহভাজন নেতা-কর্মীদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং জামিনে থাকা ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ নিয়মিতভাবেই আগাম তথ্য সংগ্রহ করছে এবং মাঠপর্যায়ের সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন এলাকায় গোপনে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। সম্ভাব্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কাও করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এর আগে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারত থেকে দেওয়া এক অডিও বার্তায় আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাদের এবং দেশে থাকা নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানোর তথ্যও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে।
পুলিশের আশঙ্কা, সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এতে হামলা, ভাঙচুর, নাশকতা ও জনদুর্ভোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায় ৪০০টি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৭৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪০ জন দুর্বৃত্তদের হামলা ও গুলিতে নিহত হয়েছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা মোকাবিলায় পুলিশের আগাম প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক উদ্যোগও প্রয়োজন। শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করে রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
