রাজশাহী, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ০১:৫১ দুপুর
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. আবহাওয়া
  4. খেলা
  5. চাকরি
  6. জাতীয়
  7. ট্রেন্ড
  8. ভিডিও সংবাদ
  9. রাজনীতি
  10. রাজশাহী
  11. সর্বশেষ
Link Copied!

জঙ্গিবাদের সঙ্গে রাজনৈতিক আপস ভয়ংকর


প্রথম পাতা ডেস্ক,

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও উগ্রপন্থা নতুন কোনো বাস্তবতা নয়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠলেও রাষ্ট্রীয় কঠোরতা, গোয়েন্দা তৎপরতা ও সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে উগ্রবাদকে কখনোই পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বিভ্রান্তি, ধর্মের অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় দুর্বলতার সুযোগে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো আবারও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এ বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। আগের সরকারের সময়ে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া বেশ কয়েকজন পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। অবশ্যই, জামিন দেওয়া আদালতের এখতিয়ার এবং আইনসম্মত অধিকার। কিন্তু উচ্চঝুঁকির কোনো আসামি মুক্তি পাওয়ার পর তার গতিবিধি, যোগাযোগ, অর্থের উৎস এবং পুনরায় কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা পর্যবেক্ষণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইইডি, পাইপ বোমা, প্রেসার কুকার বোমা ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনাগুলো সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এসব ঘটনা বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে এর প্রকৃত মাত্রা বোঝা কঠিন। কারণ জঙ্গিবাদ শুধু অস্ত্র বা বিস্ফোরকের বিষয় নয়; এর পেছনে থাকে সংগঠন, অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, যোগাযোগব্যবস্থা এবং একটি উগ্র মতাদর্শ।

নব্য জেএমবি-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক তদন্তেও এমন কিছু তথ্য সামনে এসেছে, যা নতুন করে ভাবনার দাবি রাখে। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের তদন্তে নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুনের’ বিরুদ্ধে মুক্তির পর পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা এবং বিস্ফোরক তৈরির প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, তার নেতৃত্বে একটি দল বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ করছিল।

কেরানীগঞ্জের বিস্ফোরণ, যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের ওপর হামলা, কুমিল্লায় মন্দিরে বিস্ফোরণ, ডেমরায় পাইপ বোমা এবং সাভারে প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধারের মতো ঘটনাগুলোও তাই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তদন্তে যদি এসব ঘটনার মধ্যে সাংগঠনিক কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়, তাহলে তা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়।

এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে-গুরুতর জঙ্গি মামলায় অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর রাষ্ট্রীয় নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল? জামিন আদালতের সিদ্ধান্ত হলেও জামিন-পরবর্তী তদারকি, আদালতে হাজিরা নিশ্চিত করা এবং কোনো ব্যক্তি পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার।

জঙ্গিবাদের সঙ্গে রাজনৈতিক আপস ভয়ংকর

অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের ১ হাজার ৬১১ জন সদস্য জামিনে মুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫ আগস্টের পর জামিন পাওয়া প্রায় ৩৮০ জন নিয়মিত আদালতে হাজির হচ্ছেন না বলে তথ্য এসেছে। একই সময়ে বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের বহু সদস্য পলাতক রয়েছেন। এই তথ্য জামিন-পরবর্তী নজরদারি ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ তৈরি করে।

তবে এখানে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। কোনো ব্যক্তিকে কেবল রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ বা অতীতের অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যেমন অনুচিত, তেমনি গুরুতর জঙ্গি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকা ব্যক্তিকে রাজনৈতিক বিবেচনায় ছাড় দেওয়াও বিপজ্জনক। প্রমাণের ভিত্তিতে মামলা পরিচালনা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক হয়রানির মামলা থেকে নিরপরাধ ব্যক্তিকে মুক্ত করার পাশাপাশি প্রকৃত সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান—দুটিই একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক হয়রানির মামলা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া গণমাধ্যমের দায়িত্ব। কিন্তু সন্ত্রাসবাদ বা উগ্রবাদের গুরুতর অভিযোগ থাকা কাউকে যাচাই-বাছাই ছাড়া ‘মজলুম’ কিংবা রাজনৈতিক নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয় হতে পারে না। কারণ উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো অস্ত্রের পাশাপাশি প্রচার ও বয়ানকেও তাদের কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহার করে।

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয় যখন রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জঙ্গিবাদকে একই পাল্লায় মাপা হয়। একজন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সরকারের সমালোচনা করতে পারেন, আন্দোলন করতে পারেন কিংবা ক্ষমতার পরিবর্তন চাইতে পারেন। এসব গণতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ। কিন্তু সহিংস উগ্রবাদ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ভিন্ন পদ্ধতিতে আঘাত করে। এই দুই বিষয়কে এক করে দেখা যেমন রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্তিকর, তেমনি নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।

রাজনৈতিক পালাবদলের পর আগের সরকারের সময়ে দায়ের করা মামলাগুলো পর্যালোচনার প্রয়োজন থাকতে পারে। রাজনৈতিক হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের মামলাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলা হিসেবে দেখার ঝুঁকি এড়াতে হবে। মামলা ভুল হলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশোধন করতে হবে; আর অপরাধের প্রমাণ থাকলে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে দেশের সব রাজনৈতিক দলেরই দায়িত্ব রয়েছে। রাজনৈতিক সমীকরণে সাময়িক সুবিধা পাওয়ার জন্য কোনো উগ্রপন্থী শক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়া হলে তার পরিণতি শেষ পর্যন্ত পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেই বহন করতে হতে পারে। ইতিহাস বলছে, উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘমেয়াদে কোনো রাজনৈতিক শক্তির স্থায়ী মিত্র নয়। তারা রাজনৈতিক সুযোগকে নিজেদের মতাদর্শ বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

তাই নীতিটি হওয়া উচিত পরিষ্কার-রাজনৈতিক মতভেদ রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে, আর জঙ্গিবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের মোকাবিলা করতে হবে আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে।

বাংলাদেশের সামনে একই সঙ্গে দুটি দায়িত্ব রয়েছে। একদিকে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা; অন্যদিকে জঙ্গিবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস না করা। রাজনৈতিক বিরোধিতাকে দমন করা যেমন গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর, তেম

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
প্রচ্ছদ রাজশাহী ভিডিও সংবাদ সব বিভাগ