শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনামঃ
রাজশাহীতে দুর্নীতি জালিয়াতি বদলি বাণিজ্যে মাউশির ডিডি রাজশাহীতে শুটারগান ও ফেন্সিডিলসহ অস্ত্র কারবারী গ্রেপ্তার চারঘাটে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ প্রার্থী কাস্টমস আইন, ২০২৩ বাস্তবায়নকল্পে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রশিক্ষণ কর্মশালা সরিষাবাড়ীতে নন গ্রুপ কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত চক্ষু হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধিতে অত্যাধুনিক এ্যালকোন ফ্যাকো মেশিন সংযোজন নাটোর সদর থেকে ২৪ হাজার টাকা জাল নোটসহ স্বামী-স্ত্রী কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৫ রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা প্রেসক্লাবে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত সরিষাবাড়ীতে শ্রেষ্ঠ সমবায়ী নির্বাচিত হলেন সাংবাদিক এম এ রউফ নিয়ামতপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামানত হারাচ্ছেন ৬ প্রার্থী

ফেসবুক ইন্সটার মত চলবে পাবনার ছেলের তৈরি ‘সোশ্যাল জলি’

প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন

পাবনার ছেলে, মিঠু ইসলাম একটি নতুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সৃষ্টি করেছেন, যা সহজেই প্রচলিত ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো ব্যবহার করা যাবে। এই নতুন প্লাটফর্ম ‘সোশ্যাল জলি’ নামে পরিচিত। এখনই এর অ্যাপ প্লে স্টোরে উপলব্ধ, যেখানে ব্যবহারকারীদের জন্য আকর্ষণীয় ফিচার রয়েছে। এখানে ব্যবহারকারীরা ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো ব্যবহার করতে পারবেন। সর্বোত্তম অংশ হলো, এখানে ফ্রি টেলিভিশন দেখার সুযোগ রয়েছে এবং অনলাইনে আয় করার সুযোগ প্রদান করা হচ্ছে।

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের মারজানী গ্রামে আবদুল আলী ও মিনারা খাতুনের ছেলে মিঠু ইসলাম। মিঠু একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, তিনি পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ২০১৬ সালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন।

মিঠুর শিক্ষাগত পাঠগতি প্রাপ্তির ইতিহাস অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ। ২০১২ সালে, তিনি কালিকাপুর আব্দুল জব্বার খান স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে, তিনি ২০১৬ সালে পাবনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন।

বর্তমানে, মিঠু ইসলাম ২০২১ সালের মার্চ মাসে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত প্রকল্পে রোসাটম কোম্পানিতে চাকরি পেয়েছেন এবং সেখানেই বর্তমানে কর্মরত আছেন।

আলাপকালে মিঠু ইসলাম বলেন, “আমি একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছি। এছাড়াও, অনলাইন থেকে আয় করার চিন্তা করছি। ইউটিউবে ভিডিও দেখতে দেখতে আমি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে মাসে ভালো টাকা উপার্জন করতে পারি। একটি আইডিয়া পেতে বা ভিডিও দেখার পরে আমি নিজেই একটি অ্যাপ তৈরি করার কথা ভাবি। ভারতীয় একটি ডেভেলপার কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে আমি আমার অ্যাপটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি।

মিঠু আরো বলেন, “সোশ্যাল জলি অ্যাপটিতে ১৬টি ফিচার রয়েছে। এটি কোনও জুয়ার সাইট নয়, এটি একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। মানুষ ফেসবুক ইনস্টাগ্রামের মতো এটি ব্যবহার করতে পারবেন। এটাতে অনেকগুলো অপশন রয়েছে, এর মধ্যে ব্যবহারকারীরা যতক্ষণ সময় কাটাবেন তার মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

সেই সুবিধা অন্য কোনও অ্যাপে নেই, যেখানে আয়ের টাকা জমা হবে তার নিজের অ্যাকাউন্টে ডলার হিসেবে। আর সেই ডলার দেশীয় মুদ্রা অনুযায়ী যেকোনও সময়েই উত্তোলন করা যাবে, যেখানে সর্বনিম্ন ৫০ ডলার হলই এই উইথড্র এর সুবিধাটা পাওয়া যাবে।

২০২৩ সালের আগস্ট মাসের শেষের দিকে, মিঠু ভারতের ঐ কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করেন। সেখানে তিনি তাদের সাথে অ্যাপটির আইডিয়া তৈরি করেন। ঐ কোম্পানি অ্যাপটি তৈরি করে দেয়। কয়েকমাস পর অ্যাপটি চালু করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ভালোই সাফল্য অর্জন করেছে।

মিঠু ইসলাম বলেন, “এই সোশ্যাল জলির মধ্যে রাখা ফিচারগুলোর মধ্যে রয়েছে শপ। নিজে নিজে অনলাইনে ব্যবসা করতে পারবেন। প্রতিদিন জবের সার্কুলার আসবে। চ্যাটজিপিটি, পডকাস্ট, টেলিভিশন, রিলস, ভিডিও, হাইলাইট, কম্পিটিশন, ক্লাব, স্টোরিসহ বিভিন্ন ফিচার রাখা আছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম যেমন ব্যবহার করবে, সোশ্যাল জলিও সেভাবে ব্যবহার করবে। সেইরকম চিন্তাভাবনা করেই ফিচারগুলো দেওয়া যাতে ব্যবহারকারীরা একটি অ্যাপের মধ্যে অনেকগুলো ফিচার পেতে পারেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মিঠু ইসলাম বলেন, সর্বপ্রথম সোশ্যাল জলি অ্যাকাউন্টটাকে ভেরিফাইড করতে হবে। এরপর সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে একটা লাইসেন্স নিতে হবে। যাতে আমার অ্যাপসটি দীর্ঘমেয়াদী হয়। যখন এটি বড় একটি প্লাটফর্ম হবে, তখন এখানে জনবল নিয়োগ হবে, অনেক যুবকের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা হবে।

মার্ক জুকারবার্গ ফেসবুক থেকে যেভাবে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, আমিও তেমন সম্মান অর্জন করতে চাই। আমার অ্যাপ্লিকেশনটি বাংলাদেশসহ ১৭৬টি দেশে অনুমোদিত আছে। বিশ্বকে আমি দেখাতে চাই, বাংলাদেশের বুক থেকে একজন মানুষ এমন একটি অ্যাপ তৈরি করেছে। আমি দেশবাসীর কাছে চাইবো আপনারা আমার সোশ্যাল জলি অ্যাপটি ব্যবহার করুন।

ইতোমধ্যে স্থানীয় তরুণ-যুবকের মাঝে সাড়া ফেলেছে সোশ্যাল জলি অ্যাপ। আন্তর হোসেন ও আশরাফুল ইসলাম বলেন, মিঠুর এই আবিষ্কারে তারা খুব গর্বিত। অনেক উন্নত দেশ যেমন উত্তর কোরিয়া কিংবা চায়না তারা কিন্তু ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম সোশ্যাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে না। ওরা তাদের নিজস্ব সোশ্যাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে। তেমনটি বাংলাদেশের মানুষ যদি নিজেদের তৈরি নতুন অ্যাপ সোশ্যাল জলি সবাই ব্যবহার করে তাহলে অনেকদূর এগিয়ে যাবে। সরকার যদি সহযোগিতার হাত বাড়ায় তাহলে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়বে।

 

এমন উদ্ভাবন একটি ভাল উদ্যোগ বলে মনে করেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ট্রিপল-ই) বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ওমর ফারুক। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে তরুণ, যুবক, শিক্ষার্থী যারা আছে তারা অনুপ্রাণিত হবেন। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব বলে মনে হয়। এ ধরনের কাজে সরকার এগিয়ে আসলে আরো ভাল হবে। ভার্চুয়ালি যে জিনিসগুলো তৈরি হচ্ছে, তাদের জন্য (যারা তৈরি করছেন


আরো পড়ুন